ফেসবুকে যে কয়েকটি কাজ কখনোই করা উচিত না।

ওয়েস্টার্ন দেশ গুলোতে কিছু জিনিষ ফেসবুকে শেয়ার না করার জন্য বলা হয়, যেমনঃ
- বাসার ঠিকানা।
- ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার সময় ফেসবুকে জানানো।
- সন্তানের স্কুলের নাম জানানো।
- একদিনের পরিচিত কোন বন্ধুকে ফেসবুকে অ্যাড করা।
- অনেক দিনের পুরনো বন্ধুর ছবি না দেখে শুধু নাম দেখে ফ্রেন্ডলিস্টে অ্যাড করা।
এলোপাতারি ছবি ট্যাগ করাঃ
আমাকে অনেকেই বলছে যে ভাই আমার ফেসবুকে তো ফটো ভেরিফিকেশন চায়। জানতে চেয়েছে কিভাবে বাইপাস করবে এই সমস্যা। ছবিগুলো চিনতে পারলেই আপনি পার পেয়ে যেতেন কিন্তু আপনার বন্ধুরা তা হতে দেয় নি। হয়তো নিছে দেওয়া সবগুলো নাম আপনি চেনেন কিন্তু যে ছবিটা দেখাচ্ছে সেটা একটা গাধার ছবি, এখন কি করে বুঝবেন যে আপনার কোন ফ্রেন্ডটা গাধা?আমি বলছি ট্যাগ করা কি
যারা জানেন তারা আমাকেই গাধা ভাববেন কিন্তু যারা না জানে যাদের কাজে লাগবে। ধরুন নিচের এই সুন্দর ছবিটি আপনার।

এই ছবিটাতে আপনি আপনার ৪৯ জন ফ্রেন্ডকে ট্যাগ করলেন। আপনার উদ্দেশ্য বেশি লাইক পাওয়া আর সবাইকে জানান দেওয়া যে আপনি দেখতে কতো সুন্দর। আরে ভাই আপনার ছবি সুন্দর হলে এমনিতেই লাইক পাবেন। আর এতো লাইক দিয়া কি করবেন, খাইবেন না মাথায় দিবেন?
গরু, ছাগল, সুন্দর দৃশ্য, মজার জিনিষ, এসব ছিবিতে ফ্রেন্ডদের ট্যাগ করবেন না
রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা করাঃ
কেউ কেউ হয়তো দ্বিমত পূষন করে বলবেন যে ধর্ম প্রচার করে নেকী অর্জন করবেন। কিন্তু আপনি চিন্তা করে দেখবেন ধর্ম সম্পর্কে যত বেশি আলোচনা করবেন তত ঝামেলা হবে এবং ভুল তথ্য বের হবে। অনেকে না জেনে উল্টা পাল্টা কথা বলে যা নেকী তো দুরের কথা শুধু পাপ দেয়। অনেক রঙের মানুষ আছে পৃথিবীতে এবং তাদের বিশ্বাসও ভিন্ন, তাই নিজের পায়ে কুড়াল মারবেন না।এখন আসি রাজনীতির কথায়, আমি জানি বাংলাদেশে ভালো রাজনিতিবিদ দরকার। শিক্ষিত সমাজের মানুষরা সবসময় রাজনিতি থেকে দূরে থাকতে চায় কারণ বাংলাদেশের রাজনীতির অবস্তাটা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। ফেসবুকে পসিটিভ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করলে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু পক্ষপাতী হয়ে সত্য কথাটাও না বলার উপদেশ দেব আমি। কারণ এতে কোনদিন সুফল পাবেন শুধু ঝামেলা ছাড়া।
অযথা গ্রুপচ্যাটে বন্ধু অ্যাড করাঃ
আমাকে যে কতোগুলো গ্রুপচ্যাটে অ্যাড করা হয়েছিলো তা গোনতে পারি নাই। ফেসবুক লগইন করে দেখি ২৭ টা মেসেজ (যারা মেয়েদের নামে ফেইক ব্যাবহার করেন তাদের জন্য এটা কিছুই নাগ্রুপচ্যাট করবেন পরিচিত বন্ধুদের সাথে যাদের সাথে একসাথে মজা করতে পারবেন তা না করে হুটহাট করে যে কাউকে গ্রুপচ্যাটে ডাকলে কি লাভ?
ফেসবুকগ্রুপে দরকার ছাড়া বন্ধুদের অ্যাড করাঃ
কমপক্ষে ৫০০ গ্রুপে আমাকে অ্যাড করা হয়েছে যা আমার কোন কাজে আসে না এবং কোন পোস্টও আমার কাছে আসে না। কিছু কিছু গ্রুপের নোটিফিকেশান অন করা সেগুলার জ্বালায় বাচি না। কতো বন্ধ করবো বলুন। আমি জানি আমার মতো অনেকেই এসব সমস্যায় ভুগছেন। তাই গ্রুপ এডমিনদের বলছি দয়া করে এভাবে সবাইকে আপনার গ্রুপে অ্যাড করবেন না। যাদেরকে অ্যাড করলে কাজে লাগবে তাদেরকে অ্যাড করুন। দয়া করে Justine Bieber এর ফ্যান গ্রুপে আমাকে অ্যাড করবেন নামেয়েদের নামে ফেইক আইডি খোলাঃ
এই মুহূর্তে আপনার মনেও হয়তো একটা মেয়ের নাম এসেছে আর সাথে সাথে কিছু পোড়ানোর গন্ধও পাচ্ছেন, কারণ আপনার কইলজাডা পোড়তাসে
অপরিচিত কারো দ্বারা এই মাইর খাইলে সমস্যা একটু কম কিন্তু পরিচিত কেউ যদি এমনটা করে ধরা খায় তাহলে সম্পর্কটার নাম আজীবনের জন্য পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই সাবধান!!!
আপনার ফ্যান না থাকলে ফ্যান পেজ খোলবেন নাঃ
দেখেছি অনেকেই নিজের নামে ফ্যান পেজ খুলেছে, চিন্তার বিষয় হলো সেই পেজে ২-৩ হাজার লাইকও আছে। খুঁজ নিয়ে দেখলাম যে বেটা কিছুই না। কি দরকার আছে অযথা একটা ফ্যান পেজ খোলার? আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট একটা জনপ্রিয় জিনিষ নিয়ে পেজ খোলেন সেটা অন্য কথা।ধারে ধারে লাইক খুঁজবেন নাঃ
অনেকই আমাকে চ্যাটে বলে যে ভাই আমার প্রোফাইল পিকচারটাতে একটা লাইক দেনতো। আরকম করলে আপনার সব মান সম্মান সব আস্তে আস্তে ধুলায় মিশে যাবে। চৌধুরী সাহেবও আপনার ইজ্জত বাচাতে পারবে নাদিনে ২০ টা স্ট্যাটাস দেওয়া বন্ধ করুনঃ
হাই বন্ধুরা আমি এখন বাথরুমে ঢুকছি। ২মিনিট পর আবার লিখলেনঃ আমি এখন বাথরুম থেকে বের হয়েছি।আমি বাড়ির উদ্দেশ্যে রউনা হয়েছি, ১০ মিনিট পরঃ আমি এখন মহাখালি বাসস্ট্যানে আছি। আমার ১ মিনিট পরঃ মাত্র বাসে উঠলাম।
ভেবে দেখুন কে ফেসবুকে বসে আছে জানার জন্য যে আপনি কখন কি করছেন? ফেসবুক আপনাকে জিজ্ঞেশ করে What's in your mind? এর মানে এই না যে প্রতি ২ মিনিট পর পর আপনার পরিবর্তিত মনের কথা সবাইকে জানাতে হবে।
যাকে সামনে পান তাকেই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাবেন নাঃ
ফেসবুক বলে এটা হল এমন একটা সাইট যেখানে শুধু আপনার পরিচিত বন্ধু, ক্লাসমেটরা থাকবে। তারপরও অনেকে চায় নতুন বন্ধু বানাতে সেটা দোষের কিছু না কিন্তু অনবরত ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাতেই থাকবেন আর ব্লক খাইলে ফেসবুককে গালি দেবেন সেটা তো হবে না। অপরিচিত মানুষ ফ্রেন্ড লিস্টে রাখা নিরাপদ না।আরো কিছু জিনিষ খেয়াল রাখবেনঃ
- বেশি স্টাইল মারতে গিয়ে এমন কিছু লিখবেন না যেটা মানুষ না বোঝে।
- নিজের পোস্ট বা ছবিতে নিজে লাইক করবেন না।
- খারাপ ছবি আপলোড করবেন না।
- কাউকে বেঙ্গ করে কিছু বলবেন না।
- বেশি যন্ত্রণাদায়ক স্ট্যাটাস দেবেন না, কারণ প্রকৃত যন্ত্রণা থাকলে আপনি ফেসবুকে ঢুকার মোডে থাকবেন না।
- চেষ্টা করবেন নিজের ছবিটা প্রোফাইল পিকচার দিতে।
- আপনার বোন, গার্লফ্রেন্ড বা অন্য কোন পরিচিত মেয়ের একক ছবি আপনার ওয়ালে পোস্ট করবেন না। করলে ২দিন পর এই ছবি দিয়ে আরেকটা নতুন আইডি দেখতে পেতে পারেন।
- যত কম পোস্ট কপি পেস্ট করবেন তত ভালো।
- অযথা পোক করবেন না।
- অপ্রয়োজনীয় ইভেন্টে সবাইকে অ্যাড করবেন না।
- অযথা অ্যাপ্স রিকুয়েস্ট পাঠাবেন না।
- যেকোনো সোশাল মিডিয়াতে ক্রাইম করা থেকে বিরতথাকুন।

আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুনঃ
আপনি যদি ফেসবুকের খারাপ দিক গুলো থেকে বাচতে চান তাহলে নিজে খারাপ কাজ গুলো করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখতে নিচের কাজ গুলো করুন।- অন্তত মাসে একবার পাসওয়ার্ড বদলান।
- আপনার ইমেইল আইডির পাসওয়ার্ড ভুলবেন না যেন

- ফেসবুকে মোবাইল সিকিউরিটি অ্যাড করুন।
- আপনার প্রোফাইলে যেসব ছবি ট্যাগ করা আছে তা ছাটাই করুন। (পরিচিত জনের ছবি গুলো শুধু রাখবেন)
- কোন সবাই ব্যাবহার করে এমন মোবাইল বা পিসি তে আইডি লগিন করবেন না।
- অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্স রিমুভ করে দিন।
- থার্ড পার্টি অ্যাপ কে আপনার অ্যাকাউন্টের কন্ট্রোল দেওয়ার আগে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন